শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ
বিশ্ব নিয়ন্ত্রক হিসেবে গুপ্ত সংস্থার কথা এতদিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে বিবেচিত হলেও এপস্টাইন ফাইল প্রমাণ করেছে,আমরা যে বিশ্ব দেখি তার মধ্যে প্যারালাল আরেকটি ইউনিভার্স রয়েছে। যে ইউনিভার্সে প্রচলিত ধ্যান-ধারণা কাজ করে না,বরং ক্ষমতা ও প্রভাব প্রতিপত্তির জন্য অস্বাভাবিক সব কার্যকলাপ সংঘটিত হয়।
বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,আজকের এই পরিস্থিতি অনেক আগে থেকেই সুনিপুণ পরিকল্পনার অংশ মাত্র। এপস্টাইন ফাইলের একটি নথিতে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জনপ্রিয় ও কুখ্যাত অ্যানিমেটেড সিরিজ দ্য সিম্পসনস-এর স্রষ্টা ম্যাট গ্রোনিংয়ের পরিচয়য়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। দ্য সিম্পসনস হচ্ছে সেই কার্টুন সিরিজ, যাতে ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা আগাম দেখানো হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন রাজনীতিতেই আসেননি, তখনই তাকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এই সিরিজের একটি পর্বে ড. ইউনূসকেও আনা হয়েছিল। তিনি সত্যি সত্যি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, সিম্পসন কার্টুন সিরিজে প্রদর্শিত ঘটনাগুলো কীভাবে বাস্তব রূপ লাভ করে ? এর সহজ উত্তর হচ্ছে, সিম্পসন কার্টুন যারা তৈরি করে তারাই মূলত বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্ব নিয়ন্ত্রক এই মোড়লদের গুপ্ত সংস্থাকে কন্সপিরেসি থিওরিস্টরা ইলুমিনাতি, ফ্রি ম্যাসন ইত্যাদি নামে অভিহিত করে থাকেন। গবেষকদের মতে, এসব গুপ্ত সংস্থার সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ও সংখ্যা ব্যবহার করে আন্তঃসম্পর্ক বজায় রাখে। তেমনই একটি সংখ্যা হচ্ছে ৬৬৬। গবেষকদের মতে, ৬৬৬ কে বলা হয় “মার্ক অফ দ্য বিস্ট ।” গুপ্ত সংস্থাগুলোর উঁচু স্তরের সদস্যরাই মূলত এই সংখ্যা ব্যবহার করে থাকেন। ড. ইউনূসের দিকে তাকালে আমরা দেখব, তার বিরুদ্ধে ৬৬৬ কোটি টাকার কর ফাঁকি দেবার অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ ৬৬৬ সংখ্যাটি ইউনূসের জন্য কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে । আমরা এখন সেই রহস্যের জটই খুলতে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম, মিয়ানমার মিলে এখানে একটা খ্রিষ্টান দেশ বানানো হবে এবং বঙ্গোপসাগরে একটা ঘাঁটি গড়বে । তার কারণ, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। এ জায়গাটার ওপর অনেকেরই নজর। সেটা আমি হতে দিচ্ছি না। এটাও আমার একটা অপরাধ।
২৩ মে ২০২৪ । বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন,মিয়ানমার ও বাংলাদেশের কিছু অংশ নিয়ে পূর্ব তিমূরের মত খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত চলছে । তিনি বলেন , চট্টগ্রাম, মিয়ানমার মিলে এখানে একটা খ্রিষ্টান দেশ বানানো হবে এবং বঙ্গোপসাগরে একটা ঘাঁটি গড়বে। তার কারণ, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। এ জায়গাটার ওপর অনেকেরই নজর। সেটা আমি হতে দিচ্ছি না। এটাও আমার একটা অপরাধ। শেখ হাসিনা এ বক্তব্য দেওয়ার দুই মাস পেরোতে না পেরোতেই ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ইউনূস বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারতের সমস্যা হবে বলে হুমকিও দিয়ে বসেন তিনি । ড. ইউনূসের আগস্ট মাসে দেওয়া হুমকির রেশ কাটতে না কাটতেই সেপ্টেম্বরের ২ ও ৪ তারিখে আরেকটি রহস্যজনক ঘটনা ঘটে ।

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী লাল দুহোমা যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে স্বজাতি জো’দের সাথে একটি গোপন মিটিং করেন । সে মিটিং-এ ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ট্রাইজংশন এলাকায় একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের আহবান জানান তিনি । ৪ সেপ্টেম্বর আরেকটি গোপন বৈঠকে একই সুরে বক্তব্য পেশ করেন দুহোমা । সে বক্তব্যে দুহোমা জানান , ১৯৮৮ সাল থেকে তারা একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । তথ্য প্রমাণসহ বিষয়টি নভেম্বর মাসে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে । এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলেও মণিপুর পরিস্থিতির কারণে ভারতের কেন্দ্রিয় সরকার কোনোরকম পদক্ষেপ নেবার সাহস করেনি হয়ত ।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর ড. ইউনূস প্রথম বিদেশী অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টকে । সে ডাকে সাড়া দিয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসেন হোসে রামোস হোর্তা ।
আবার, ২০২৫ সালের শুরুতেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রায় সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলে দেশটির জান্তা সরকার । এরপরই জতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী তথা রোহিঙ্গাদের সাথে ইফতার করিয়েছেন ড. ইউনূস। রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানোর আষাঢ়ে গল্প শুনিয়ে গেছেন গুতেরেস। গুতেরেসের এ সফরের সময় রাখাইনের সাথে মানবিক করিডর খোলার আহবান জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো । আর সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ । চলবে……
লেখকঃ রাজনীতিবীদ ফেসবুক লিংকঃ https://www.facebook.com/shahriarkabir.biddut
সম্পর্কিত খবর





Add comment