বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন,ঘোষণা দিয়ে হোক বা গোপনে হোক, কোনোভাবেই টাকা ছাপানো ঠিক না। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর চেষ্টা করেছেন টাকা না ছাপানোর জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা ছাপিয়ে তিনি সেটা গোপন রেখেছেন। পরে বলতে বাধ্য হয়েছেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে অর্থনীতি যে অবস্থায় পেয়েছিল, বর্তমান সরকার তার চেয়েও কিছুটা খারাপ অবস্থায় পেয়েছে। বিশেষ করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বর্তমানে ভঙ্গুর অবস্থায় আছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপেও গত দেড় বছরে তা খুব বেশি কমেনি। গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই তিন দফা নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছেন। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি না কমে বরং ঋণের সুদহার বেড়ে সর্বোচ্চ ১৬-১৭ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা বিনিয়োগের অন্যতম বাধা হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাজার কিন্তু বুঝতে পারে যে টাকা ছাপানো হয়েছে কি না। কারণ টাকার বিপরীতে যদি পণ্য উৎপাদন না থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি হতে বাধ্য। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ যদি অন্যতম লক্ষ্য হয়, তাহলে টাকা ছাপানোর চিন্তা যেন স্বপ্নেও না আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিতে গলদ ছিল বলেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।





Add comment