লুসিড ড্রিম (https://www.facebook.com/shuvo.o9017)
বিএনপি নির্বাচনে জেতায় অনেককে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখছি।অনেকেই বলার চেষ্টা করছেন মন্দের ভালো হয়েছে।তারা আসলে বিএনপি -জামায়াত ও পিনাকি’র মনস্তাত্ত্বিক ভয়ংকর ফাঁদের রহস্যই ধরতে পারেননি।
সহজভাবে বলতে গেলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এ-টিম ও বি-টিম তৈরি করা হয়েছে।মৌলবাদের উত্থানের নেতৃত্ব দিচ্ছে জামায়াত। অপরদিকে একসময়ের জ-ঙ্গী গডফাদার রাজনীতিবীদরা হয়ে যাচ্ছেন মৌলবাদের বিকল্প। জামায়াতের বটবাহিনী অনলাইনে জামায়াত জিতে যাচ্ছে এমন একটি আবহ তৈরি করেছিল।জনগণ তার বিকল্প হিসেবে দেখতে শুরু করলো বিএনপিকে। জনগণের এই মনস্তাত্ত্বিক খেলায় সমঝোতার নির্বাচনের ফাঁদ পেতেছে বিএনপি। এনসিপির বেশ কয়েকটি আসনে বিজয় ও ৩০ টার অধিক আসন না পাওয়া এবং জামায়াত প্রায় ৬৮ টি আসনে জয় পেয়েছে, যা এক কথায় অবিশ্বাস্য।
জাতীয় পার্টি একটি আসনেও বিজয়ী হয়নি! এমন অস্বাভাবিক সত্য বিশ্বাস করার ক্ষমতা আসলেই আমার নাই। বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে এটা সম্পূর্ণ অসম্ভব। যেখানে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে জাতীয় পার্টির একটি নির্দিষ্ট ভোট ব্যাংক আছে ,তা সবার জানা।
ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় পার্টিকে সবকটি আসনে হারানো হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনের ফাঁদে আটকা পড়েছিল জাতীয় পার্টি।
এনসিপি নামক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা হয়েছে মাত্র একবছর । মাত্র একবছরে যেখানে বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে এই কিংস পার্টির তেমন সাংগঠনিক তৎপরতা নেই , সেখানে এতগুলো আসনে এনসিপির বিজয় শুধু অসম্ভব নয় , বরং রহস্যজনক। এদের নির্বাচনের খরচের উৎস কী ?
একটা নবগঠিত রাজনৈতিক দলের প্রতিটি ওয়ার্ডের অফিস করতে যে খরচ তাও এনসিপির আছে বলে মনে হয় না। এই এনসিপির আয়ের উৎস কী?
এনসিপির আখতার, রংপুরের যে আসনে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হলেন -সেই আসনের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাংসদ হচ্ছেন টিপু মুন্সি। নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব নাই হয়ে গেছে বলা আকতারের পরিচয় কী?
আখতারের ১ লাখ ৪৯ হাজার ভোট পাওয়ার রহস্য কী ? রংপুর -৩ আসনকে বলা হয় জাতীয় পার্টির ঘাঁটি। এই আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পেয়েছেন ৩৪ হাজার ভোট! এটা যে বিশ্বাস করবে সে পাগল ছাড়া আর কিছুই নয়।
রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টিকে মাইনাস করে বিএনপি সরকারী দল আর জামায়াত শক্তিশালী বিরোধী দল ! এমন শক্তিশালী একটি থিওরিকে জনমনে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে ।এটাই হচ্ছে আওয়ামীলীগকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতি থেকে দূরে রাখার বিএনপি ও জামায়াতের নিনজা টেকনিক।
আকতারের সংসদীয় আসন রংপুর – ৪ ( পীরগাছা – কাউনিয়া) । ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, এই পর্যন্ত চারবার সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগের টিপু মুন্সি। এইবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই আসন থেকে বিজয়ী হলেন আখতার। আকতারের আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে ১৮ শতক কৃষি জমি, যার মূল্য মাত্র ২৩ হাজার টাকা! এও কি বিশ্বাস করতে হবে?
শত কোটি টাকার জামায়াতের আমিরের যেখানে মাত্র ১ লাখ টাকার স্বর্ণ আছে,সেখানে আখতারের কাছে আছে দশ লাখ টাকার স্বর্ণ। এসব জেনজি প্রজন্মের কাছে রাজনীতিটাই হচ্ছে ব্যবসা।এরা কোন চাকরি করে না , ব্যবসা করেন না। রাজনীতির ভণ্ডামি হচ্ছে এদের ব্যবসার মূল পুঁজি। এভাবেই মূলত একটি মেটিকুলাস নির্বাচনের মাধ্যমে জিতে এসেছেন কোন কর্ম না করা এনসিপির ৬ সাংসদ। সার্জিস আলম ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর জন্য আছে সংসদের উচ্চকক্ষ। ভোটারবিহীন নির্বাচনের পিআর পদ্ধতি ও ধোঁকাবাজির এই নির্বাচন মানুষের চোখে ধুলো দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।

জাতীয় পার্টির জিএম কাদেরকে হারিয়ে দিয়ে খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকের বিরুদ্ধে জিতিয়ে দেয়া হলো জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তি আন্দোলন নামক একটি অখ্যাত রাজনৈতিক দলের নেতা ববি হাজ্জাজকে। শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের সন্তান আমাদের ঝর্ণা ভাবীর কথিত স্বামী মামুনুল হক হঠাৎ করেই রাজনীতিতে উদয় হলেন চান তারা প্রতীকের মতো।
ঢাকার কোন আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য যে নূন্যতম কোয়ালিটি ও গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হয় তার কিছুই নেই এনসিপির নাহিদ ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মধ্যে। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর বাড়ি হচ্ছে কুমিল্লা চাঁদপুর । তাকে ঢাকায় বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থী মীর্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। টম এন্ড জেরি খেলায় জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।এসব ছিল বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনী নাটকের অংশ।
ঢাকার একটি আসনে একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমাসহ নির্বাচনী খরচ কমপক্ষে ৮৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা। নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর এই নির্বাচনী আয়ের উৎস কী?
ঢাকার স্থানীয় না হয়েও মীর্জা আব্বাসের বিপরীতে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে মূলত নির্বাচন নিয়ে ইদুর -বিড়াল খেলা খেলে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করা হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের পরিকল্পিত এই পাতানো নির্বাচনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের কাছে একটা ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তকমা দেয়া।
ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বরিশাল – ৫ আসনের পরিচিত মুখ হয়েও বারবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোট পান মাত্র ১৪ হাজার। ২০১৮ সালে মনীষা বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেছেন। মানুষের জন্য একজন ডাক্তার হিসেবে নিঃস্বার্থ সেবা করে যাওয়া মানুষটির যেখানে নির্বাচনে এই হাল,সেখানে মাত্র এক বছরেই রাজনীতিবীদ বনে যাওয়া জমিদারের নাতি সার্জিস আলম- যার কোন চাকরি ও ব্যবসা নেই। রাজনৈতিক ভণ্ডামিই একমাত্র পুঁজির সার্ভিস আলমের। জীবনে প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট -সার্জিস আলম যাবেন সংসদের উচ্চকক্ষে। রাজনীতি কি এতোই সহজ ?
এভাবেই একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে সরকারে আর বিএনপির অপর ভাই জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধী দল বানিয়ে একটা ভোট ডাকাতির পরিকল্পিত ভোটারবিহীন নির্বাচন -জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। নিজেদের হিসাব একটু মিলিয়ে দেখুন সবাই।
এনসিপির আরেক প্রার্থী হাসনাত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত।জোকার হান্নান মাসুদ পর্যন্ত নির্বাচিত হয়েছেন। “ওজন কমাও মাসুদ, না হলে মানুষ মাংস কেটে নেবে।” ছাত্রদল নেত্রীর সেই হাস্যকর মন্তব্য আপনাদের মনে আছে ? এমন জোকারকে সংসদে পাঠানোর মত বোকা এই দেশের জনগণ নয়। মাইন্ড সেট গেমের মাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামীলীগকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে রাজনীতির মেটিকুলাস ডিজাইন খেলে দিয়ে এখন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের সামনে রাজনৈতিক ” টম এন্ড জেরি” খেলতেছে ।
বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী এইসব ” টম অ্যান্ড জেরি” খেলা বুঝতে না পারলে আওয়ামীলীগের ফেরা দীর্ঘস্থায়ী হবে।এই সুপরিকল্পিত মেটিকুলাস ডিজাইনে এগিয়ে যাচ্ছে দুই সহোদর ভাই বিএনপি ও জামায়াত। এখনও এসব নাটক বুঝতে জনগণের বাকি আছে?
এসব কনস্পিরেন্সি থিওরি বুঝতে না পারলে আওয়ামীলীগের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে, তা আওয়ামীলীগ না বুঝলেও বিএনপি, জামায়াত ও পিনাকী খুব ভালোই বুঝে। সময় যত গড়াবে এসব আপনাদের সামনে আয়নার মত ফকফকা হয়ে যাবে।কিন্তু ততদিনে বহু দেরি হয়ে যাবে।
(ঈষৎ পরিমার্জিত )





Add comment