কয়সার হামিদ সামি সীতাকুণ্ড পৌরসভা ছাত্রলীগের কর্মি। ৫ আগস্টের পর এলোমেলো হয়ে গেছে জীবনের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা। তবুও দমে যাননি। পলাতক জীবন বেছে নিতে বাধ্য হলেও জয় বাংলার টান তাকে নিশ্চুপ থাকতে দেয়নি। পালিয়ে থেকেও দলের পক্ষে কাজ করছিলেন।
অস্বচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসা সামিদের গল্পগুলো একই । বুক ভরা সাহস, সাগর সমান স্বপ্ন । আর আকাশের মত অসীম ডেডিকেশন। কিন্তু তাতে কি ? তাতে তো নেতাদের কিছু যায় আসে না । নেতাদের লাগে মাইম্যান, স্বার্থ পূরণ করার হাতিয়ার। আর এখানেই সামিরা এসে থেমে যায়। যেমন থামে, সুদূর সমুদ্র থেকে হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসা তরঙ্গ। বিস্তীর্ণ বালিকার মধ্যে যাদের ভেজা ছাপ থাকে ,কিন্তু কোনো অস্তিস্ত থাকে না । সামিরাও তেমনই।
সামিদের রক্ত, ঘাম আর ত্যাগের উপর ভর করে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে-রাজনীতির হারানো পথ খুঁজে পায়। কিন্তু সামিরা থেকে যায় পথহারা পথিক হয়ে। আওয়ামীলীগের তৃণমূলের অধিকাংশের গল্প একই রকম। বৃত্তাকার চক্রে আবর্তিত হয়। কিন্তু এই বৃত্তাকার চক্রের ডেডলক ভাঙে না নেতারা । বলা চলে ভাঙার চেষ্টা করে না । তাই তৃণমূলের ভাগ্যের কোনো উন্নতিও হয় না ।

আঠার জুন সন্ধ্যায় কায়সার হামিদ সামি বাড়িতে আসতে বাধ্য হন। যে ফুপু মাতৃ স্নেহে তাকে মানুষ করেছে, সেই ফুপু আর দুনিয়াতে নেই। গরীবদের টাকা না থাকতে পারে, কিন্তু রক্তের টান থাকে একশতে একশো। ফলে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ফুপুকে শেষ বারের মত দেখতে এবং জানজায় অংশ নিতে বাড়িতে আসেন সামি । এরপরই বিএনপির নেতাকর্মিরা তার উপরে হামলা চালায়। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও দীর্ঘ মেয়াদে হাসপাতালে তাকে থাকতেই হবে। চট্টগ্রাম মেডিকেলে শুয়ে সামি হয়ত ভাবছে, “এ আঁধার কেটে যাবে। নেতারা তার পাশে দাঁড়াবে। একদিন তার মূল্যায়ন হবে।”
কিন্তু বোকা সামি জানে না, লড়াইটা শুধু তারই। মায়ের চোখের জল আর দরিদ্র পিতার অসহায়ত্ব দেখা ছাড়া তার অর্জনের ঝুলি শূন্য। সামি জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়েছে কি না, জানা হয়নি ।
জীবনানন্দ দাশ এক কবিতায় লিখেছেন,
“যে —জীবন ফড়িঙয়ের, দোয়েলের —মানুষের সাথে তার হয়নাকো দেখা “
সামিও হয়ত ইতোমধ্যেই বুঝে গেছে,
“যে —জীবন তৃণমূলের, সামিদের —নেতাদের সাথে তার হয়নাকো দেখা “
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সামিরা কি সেই পুরনো বৃত্তাকার চক্রে ঘুরপাক খাবে ? নাকি সামিদের পাশে দাঁড়িয়ে—তাদের মূল্যায়ন করে ডেডলক ভেঙে নতুন ছন্দে ফিরবে আওয়ামী লীগ?





Add comment