নিঃশেষ নাকি কৌশল?
আর দিন কয়েক পর নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করলেও ব্যতিক্রম আওয়ামীলীগ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না দলটি।কিন্তু দলটির অতীত ইতিহাস বলছে- কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকুক বা না থাকুক,যে কোনো নির্বাচনে চালকের আসনে থেকেছে দলটি। সেদিক চিন্তা করলে এখানেও ব্যতিক্রম আওয়ামীলীগ। সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার নরম বার্তা দিয়েই খালাস দলটির নীতি নির্ধারকরা। কোনো ধরণের শক্ত কর্মসূচি দেয়া থেকে আপাতত বিরত আছে দলটি। অবশ্য নেতাকর্মিদের অনলাইনে ভোট বর্জনের ক্যাম্পাইন চালাতে দেখা গেছে।আওয়ামীলীগের এই নীরবতা তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে যেন ঠিক মিলছে না। তাই নেতাকর্মিরাও রাজনৈতিক সমীকরণের কোনো কূল কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা আওয়ামীলীগের গলার কাঁটা মূলত ইউনূস। নির্বাচনের পর ইউনূস স্বাভাবিকভাবে বিদায় নিলে আওয়ামীলীগ ধীরে ধীরে রাজনীতির মাঠে ফিরে আসবে। আর ইউনূস যদি ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো কূট কৌশল অবলম্বন করেন, তাহলে আওয়ামীলীগের ফেরাটা আরো সহজ হয়ে যাবে।যদিও সমর্থিত একটি সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী হবার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আওয়ামীলীগসহ সকল দলের অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজন করবেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণ এতটা সরল হবে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

আরেকটি সূত্র দাবি করেছে, বিএনপির তুলনায় জামায়াতকে বেশি পছন্দ ইউনূসের। জামায়াত জোটকে ক্ষমতায় এনে একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি করতে চাচ্ছেন তিনি। তবে, সেই অচলাবস্থার স্বরূপ কেমন হবে, তা নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি সূত্রটি।
এদিকে আওয়ামীলীগের নীরবতাকে কৌশল হিসেবে দেখছেন কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তাদের দাবি, সামনে আরেকটি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই এখনই শক্তি ক্ষয় করার বদলে শক্তি সঞ্চয়ের অংশ হিসেবে নীরবতাকে বেছে নিয়েছে আওয়ামীলীগ।





Add comment