আওয়ামী লীগের কারাবন্দী একজন সাবেক রাজনীতিককে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী)।
হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রেকর্ডিংগুলোয় চট্টগ্রাম-৬ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটরদের একজনের কথোপকথন রয়েছে। এই প্রসিকিউটরের নাম মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। জামিনের বিষয়ে তিনি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন।
রেকর্ড করা হোয়াটসঅ্যাপ কলগুলোর একটিতে ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্যকে আগের একটি আলাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদারকে বলতে শোনা যায়, শেষ পর্যন্ত তিনি যদি ফজলে করিম চৌধুরীকে বের করতে পারেন—তখন একটি ‘বেশ ভালো অ্যামাউন্টের’ বিষয় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমি ওয়ান ক্রোরের (১ কোটি টাকা) কথা বলেছিলাম।’ এক কোটি টাকা থেকে সাইমুম রেজা তালুকদার অগ্রিম ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্যও বলেন। তিনি বলেন, যদি ১০ লাখের মতো অগ্রিম দেওয়া যায়, তাহলে খুব ভালো হয়—নগদে। সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তাঁকে ওই মামলা থেকে সরিয়ে দেন আইসিটির তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তবে ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরানো হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর পদে পরিবর্তন আসে। তখন ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারকে সাইমুম রেজা তালুকদার জানান, তিনি আবার মামলাটিতে ফিরে আসবেন।
ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের একজন সদস্য জানান, এরপর তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে সাইমুম রেজা তালুকদারের কথোপকথনের কয়েকটি রেকর্ডিং দেওয়া হয়। এরপর ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারকে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন যে মন্ত্রী তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন। ওই পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা কখনোই ওই প্রসিকিউটরকে টাকা দেননি, আর দেওয়ার ইচ্ছাও ছিল না। বরং তাঁরা প্রসিকিউটরের সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তাঁরা এমনটি করেছেন, যাতে তাঁরা দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেন।
সাইমুম রেজা তালুকদার পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকার নাগরিক সমাজে পরিচিত মুখ। ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হলেও আইসিটিতে নিয়োগ পাওয়ার আগে তাঁর মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব কম ছিল।
তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো , চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর





Add comment